
তারিক আল মুরশিদ নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাত্র রাজনীতির কিংবদন্তী, ডাকসুর একমাত্র নির্বাচিত দুইবারের ভিপি ও চাকসুর সাবেক জিএস, বর্তমান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না’র ৭৪তম জন্মদিন আজ (১ নভেম্বর) গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদযাপন করেছে নাগরিক ছাত্র ঐক্য।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় সংগঠক ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক তানভীর ইসলাম স্বাধীন এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রিয়া ।
অনুষ্ঠানে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় “কল্যাণ রাষ্ট্রের ৯ দফা (আহবান পত্র)”, যা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার কল্যাণ রাষ্ট্রের দর্শন ও মানবিক রাজনীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, এবং নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রী সংগঠক ফজলে রাব্বী, মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী ও অন্যান্য বক্তরা।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ নাগরিক ছাত্র ঐক্যের প্রতি, তোমরা শুধু আমার জন্মদিন উদযাপন করছ না, বরং রাজনীতিতে এক নতুন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান তুলছ। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি একসময় ছিল আদর্শ, ত্যাগ ও নেতৃত্ব তৈরির পাঠশালা। সেই জায়গা থেকেই আমি বিশ্বাস করি, ছাত্র সমাজই পারে এই দেশকে ন্যায়, সমতা ও কল্যাণের পথে নিয়ে যেতে।
আজ তোমরা যে ‘কল্যাণ রাষ্ট্রের ৯ দফা আহবান পত্র’ প্রকাশ করেছ, তা শুধুমাত্র একটি সংগঠনিক কর্মসূচি নয়। এটি একটি আদর্শিক ঘোষণা। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদা সবার অধিকার হবে; যেখানে রাজনীতি হবে জনগণের সেবার উপায়, ক্ষমতার নয়।
ছাত্র রাজনীতিকে আমি সবসময় দেখেছি সমাজ পরিবর্তনের প্রথম সারির শক্তি হিসেবে। আমি বিশ্বাস করি, নাগরিক ছাত্র ঐক্য এই দেশব্যাপী নৈতিক ও মানবিক রাজনীতির নতুন ধারা সৃষ্টি করবে। তোমরা সততা, সাহস ও যুক্তির পথে থাকো। তাহলেই রাজনীতি আবার মানুষের আস্থার জায়গায় ফিরবে।
তরুণ প্রজন্ম যদি আদর্শে দৃঢ় থাকে, তবে কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবে। এই বিশ্বাস নিয়েই আমি আজকের এই দিনটি উদযাপন করছি। তোমাদের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও আশীর্বাদ রইল।”
শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, “মান্না ভাইয়ের নেতৃত্ব আজও তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে নৈতিকতার দৃষ্টান্ত। নাগরিক ছাত্র ঐক্যের ৯ দফা কর্মসূচি এই আদর্শকে সংগঠিত করছে।”
সভাপতি তানভীর ইসলাম স্বাধীন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, কল্যাণ রাষ্ট্রই বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ। মান্না ভাইয়ের চিন্তা ও দর্শন বাস্তবায়নে নাগরিক ছাত্র ঐক্য মাঠে থাকবে।”
কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলে রাব্বী বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর চিন্তা, নৈতিক রাজনীতি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে আলোর দিশা দেয়। বক্তারা প্রতিশ্রুতি দেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত কল্যাণ রাষ্ট্রের ৯ দফা বাস্তবায়নে নাগরিক ছাত্র ঐক্য সারাদেশে সাংগঠনিকভাবে কাজ করবে।
কেন্দ্রীয় সংগঠক মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী বলেন, মান্না ভাইয়ের কাছে আমরা সবসময়ই শুনি, রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্র মানে জনগণের অধিকার, আর রাষ্ট্র মানে ন্যায় ও মানবিকতার প্রতিষ্ঠা। আজ তিনি যখন আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণের, তখন আমরা, তাঁর আদর্শে বিশ্বাসী তরুণ প্রজন্ম, দৃঢ় কণ্ঠে বলছি – হ্যাঁ ভাই, আমরা আছি আপনার সঙ্গে, আমরা প্রস্তুত আগামী প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে
অনুষ্ঠানের শেষে কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এই উদযাপন সম্পন্ন হয়। উপস্থিত সবাই মাহমুদুর রহমান মান্না ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোমিনুল ইসলাম মোমিন, দেলোয়ার হোসেন রাজা, মাহবুব আলী, মঞ্জু কাদির; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম কবীর হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহবায়ক সাকিব আনোয়ার, অর্থ সম্পাদক ও নারী আহবায়ক শাহনাজ রানু, কেন্দ্রীয় সদস্য ফেরদৌসি আক্তার, রুহুল আমিন জুয়েল, ইমরাজুল ইসলাম রুবেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহবায়ক মাহবুব সুমন, ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, নাগরিক যুব ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক মাহফুজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় সদস্যগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় সংগঠকবৃন্দ।