
অনলাইন ডেস্ক :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের পর মধ্যরাতে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি টিম শায়েস্তানগরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
এদিকে কী কারণে, কেন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয় জানতে সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে ওসির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে হুমকি দেন মাহাদী হাসান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওর একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের গভর্নমেন্ট এখানে ফর্ম করছি। আমরা আমরাই গভমেন্টকে ফর্ম করেছি। ওই জায়গা থেকে আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন, আবার আপনি আমাদের সাথে বার্গেনিং করতেছেন এবং বলতেছেন যে আন্দোলনকারী হয়েছে কী হয়েছে?’
এ সময় পাশ থেকে কেউ মাহদী হাসানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে থামাতে চাইলেও তিনি বলেন, ‘ভাই আমি জানি না কাদের কী পরিচয়। আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে এবং হবিগঞ্জে মোস্ট, যেখানে সবচেয়ে ক্রুশাল ইম্পর্টেন্ট আন্দোলন হয়েছে, হবিগঞ্জ এদের মাঝে একটা। বানিয়াগঞ্জ থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার আলীর ছেলে এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ দাবি করে, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে তা সংগঠিত বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার বক্তব্য ভাইরাল হলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২টায় তাকে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে, রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সদর থানার সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা মাহাদীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন ও নানান স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী এসে থানার সামনে অবস্থান নেয়।