তারিক আল মুরশিদ স্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক-কানুপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে চলা কাটাখালী নদী এখন ১২টি গ্রামের মানুষের জন্য এক বড় প্রতিবন্ধকতার নাম। এই নদীর ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাটে একটি ব্রিজের অভাবে যুগ যুগ ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উত্তর ছয়ঘরিয়া, মথুরাপুর, সুন্দইল, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, কানিপাড়া, রামনাথপুর ও সরকারপাড়ার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যা বা বর্ষা মৌসুমে কাটাখালী নদীর পানি বেড়ে গেলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম তখন ছোট্ট একটি ডিঙ্গি নৌকা। ফলে ছোট ছোট স্কুলগামী শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে চায় না, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও ভয়ে তাদের পাঠাতে চান না।
যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় কোনো জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় মাইলের পর মাইল রাস্তা ঘুরিয়ে অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যেতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভালো কোথাও বিয়ে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আক্ষেপ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো: এ যেন এক নীরব প্রতিবাদ।
দীর্ঘদিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও যখন কোনো সুরাহা হয়নি, তখন বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই একতাবদ্ধ হয়েছেন। সরকারি সাহায্যের আশা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাটাখালী নদীর ওপর তারা তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো। বর্তমানে এই নড়বড়ে সাঁকোটিই ১২টি গ্রামের মানুষের পারাপারের প্রধান ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, "একটি ব্রিজের অভাবে আমরা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও ব্রিজের দেখা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের কষ্টের টাকায় এই বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।" তবে এই সাঁকো দিয়ে ভারী মালামাল বা অসুস্থ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না।
ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে শুধু এই ১২টি গ্রাম নয়, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষও নিয়মিত চলাচল করে। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, অবিলম্বে কাটাখালী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে এই অবহেলিত জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হোক।