
মিজানুর রহমান গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি:
রংপুর বিভাগের প্রবেশদ্বারখ্যাত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৪ সংসদীয় আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শেষ হাসি হেসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। মাত্র ৩ হাজার ৩৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তিনি আসনটি ছিনিয়ে নেন।
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দু’প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে, যা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একমাত্র গাইবান্ধা-৪ আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি চারটি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরা।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দ (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫২ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন (হাতপাখা) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ ভোট এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতোয়ারুল ইসলাম (কোদাল) পেয়েছেন ৩৬৮ ভোট।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ভোটসহ মোট ১৪৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪০ জন ভোটার। বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ১৭৭টি ভোট। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৬৩টি। ভোট পড়ার হার ছিল ৬২.৯৪ শতাংশ।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরা এই আসনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।