
তারিক আল মুরশিদ গাজীপুর থেকে:
টঙ্গীতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও ৬ জন আহতের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা যুবদলের কেউ নন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় থানা যুবদল নেতারা। বুধবার বিকেলে টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল এবং তরিকত পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার রয়েলসহ স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে স্থানীয় সাফি হাসান রিয়ান ও তার বন্ধুরা খবর পান যে ঝিনু মার্কেট এলাকার একটি দোকানে নকল পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন কারখানার আইডি কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৫), নয়ন ইসলাম রাজ (৩২) ও সাফি হাসান রিয়ান (৩৪) আহত হন।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরদিন রোববার আহতরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ফিরোজ মিয়া (২৭), শামীম হোসেন (২৪), শাহাদাত হোসেন (২৭), আব্দুল মালেক (৫৫), তার ছেলে মাহিম (১৫) ও কর্মচারী মোঃ রোহান (২০) সহ রবিউল, নয়ন ও সাফি আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
মামলা দায়েরের পর সোমবার রাতে পুলিশ মোঃ রবিউল ইসলাম, নয়ন ইসলাম রাজ ও সাফি হাসান রিয়ানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
একাধিক সূত্রে জানা যায় রবিউল ও নয়ন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের কর্মী এবং সাফি টঙ্গী পূর্ব থানা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তারা নির্বাচনে ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল বলেন গ্রেপ্তারকৃতরা কেউ যুবদলের সদস্য নয়। আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করতেই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি।
গ্রেপ্তার সাফি হাসান রিয়ানের বড় বোন রিতু আক্তার অভিযোগ করেন, আমার ভাই নকল নির্বাচনী কার্ড তৈরির প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। আমরা মামলা করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। বরং উল্টো আমার ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
অভিযুক্ত আব্দুল মালেক দাবি করেন, তিনি কোনো নকল কার্ড তৈরি করেননি। কেন তার দোকানে হামলা ও লুটপাট হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আজমিরি খান টুটুলের পক্ষে কাজ করেছেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।