
মিজানুর রহমান, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রপুর বৃন্দাবন পাড়ায় গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক মন্দির কমপ্লেক্স— শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়; বরং আধ্যাত্মিকতা, মানবসেবা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছেন হরিদাস বাবু, যার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, শ্রম ও আত্মত্যাগের ফলেই এই বিশাল কমপ্লেক্স আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। বহু মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এই ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান।
মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য রয়েছে গুরুকুল বা গীতা শিক্ষা স্কুল। অসহায় মানুষ ও শিশুদের আশ্রয়ের জন্য রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রম।
জ্ঞানচর্চার জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি ধর্মীয় লাইব্রেরি। এছাড়াও ভবিষ্যতে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্দিরের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে একটি ছোট সাজানো গ্রাম, যার নাম দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণনগর। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চালু করা হয়েছে মোম, সিঁদুর ও আগরবাতি তৈরির কারখানা।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের থাকার জন্য রয়েছে ভক্তিনিবাস, যেখানে প্রায় ৪০টি সুসজ্জিত কক্ষ রয়েছে। দর্শনার্থীদের খাবারের জন্য চালু রয়েছে জগন্নাথ ভোজনালয় ও মা লক্ষ্মী ভান্ডার, যেখানে প্রসাদ গ্রহণের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই মন্দির কমপ্লেক্স শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি মানবতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তরা।