
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলারছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের বাগবাড়ী এলাকায় এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ৭৬৫ নম্বর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেনটি মারাত্মকভাবে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনের অন্তত ৯টি কোচ লাইন থেকে ছিটকে পড়ে রেললাইন দুমড়েমুচড়ে গেছে।
ঈদে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকায় এই দুর্ঘটনায় দুই শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আজ বিকেলে সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় নীলসাগর এক্সপ্রেস। ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ী গ্রাম সংলগ্ন সিঙ্গেল লাইন সেকশনে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সিগন্যাল অমান্য করে (Signal Overshoot) ট্রেনটি অগ্রসর হওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। লাইনের ওপর বগিগুলো আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকায় রেললাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
ট্রেনটিতে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বগিগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাওয়ায় এবং লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায়:
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অন্তত ২০০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। স্থানীয় গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে সান্তাহার ও পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোতে পাঠাচ্ছেন।
হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের আশঙ্কা, বগির নিচে চাপা পড়ে নিহতের সংখ্যা অনেক হতে পারে।
উক্ত সেকশনটি সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় এই দুর্ঘটনার ফলে সান্তাহার থেকে চিলাহাটি, পঞ্চগড় ও সৈয়দপুর রুটের সকল ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উত্তরবঙ্গের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত কোচগুলো উদ্ধার করতে ইতোমধ্যে পার্বতীপুর থেকে একটি শক্তিশালী রিলিফ ট্রেন (উদ্ধারকারী ট্রেন) ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
রেললাইন ভেঙে যাওয়ায় এবং ৯টি বিশাল কোচ উদ্ধার করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হওয়ায় লাইনটি সচল হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বিকল্প পথ বা সড়কপথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ভাষ্য: “আমরা উদ্ধার কাজ দ্রুততম সময়ে শুরু করার চেষ্টা করছি। লাইন মেরামতের পর পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তবে এতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।”