
মিজানুর রহমান, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্যতম আসামি নূর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তবে প্রধান আসামি নুরুন্নবী এখনও পলাতক রয়েছে।
গত ৩০ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে রাজাহার ইউনিয়নের নওগাঁ (প্রভুরামপুর) এলাকায় একটি মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গোবিন্দগঞ্জ সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এশিয়ান টেলিভিশনের গাইবান্ধা-২ প্রতিনিধি মাহমুদ খানসহ তিনজন সাংবাদিক। তারা সেখানে ভিডিও ধারণের সময় বাধার মুখে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজাহার ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী, তার ভাই নূর আলমসহ আরও ৪-৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা লাঠিসোঁটা ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে এবং গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় সাংবাদিকদের মারধর করা হয় এবং হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার সময় আওয়ার নিউজের গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি জোবাইদুর রহমান সাগরের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এতে মাহমুদ খান ও সাগর আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আহত সাংবাদিক মাহমুদ খান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিমউদ্দিনের নির্দেশনায় এবং সি-সার্কেলের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার রশীদুল বারীর তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়। গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে অন্যতম আসামি নূর আলমকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে ওসি মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। এছাড়া প্রধান আসামি নুরুন্নবীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গাইবান্ধা জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে প্রধান আসামিসহ সকল জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকাবাসীও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।