
অনলাইন ডেস্ক :
সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর উত্তর কাটতলীতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলির বাসায় ‘গোপন বৈঠকে’ বসেছেন। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে হাসনাতের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করা হলেও নেতাকর্মীরা বাড়িটি অবরুদ্ধ করে রাখলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা তাকে উদ্দেশ করে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসনাত আবদুল্লাহ ওই বাড়িতে আটকা ছিলেন। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সাহেদ আকবরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং সন্ধ্যার দিকে হাসনাতকে নিরাপদে বের করে আনেন।
সাহেদ আকবর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, শুরুতে তারা অস্বীকার করেছিল যে হাসনাত সেখানে আছেন। পরে নেতাকর্মীরা বাড়ি ঘেরাও করলে জানানো হয় তিনি ভেতরেই আছেন। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিই এবং তাকে বের করে আনি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে চা খেয়ে তাকে বিদায় দিয়েছি। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
হাসনাত আবদুল্লাহর মতো একজন জুলাই যোদ্ধা কেন গোপনে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় বৈঠক করবেন, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল নেতাদের ভাষ্যমতে, মনজুর আলম বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের চাচা।
সাহেদ আকবর বলেন, হাসনাত সারাদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। অথচ এভাবে গোপনে একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় আসাটা মানানসই নয়। আমরা তাকে বলেছি, আপনি আসবেন বললে আমরা সিটি গেট থেকে সংবর্ধনা দিয়ে নিয়ে আসতাম।
সাবেক মেয়র মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপি থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেও পরে পদত্যাগ করেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি মনজুর আলম। পরে ওই বছর তিনি আর নির্বাচন করেননি। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন তিনি। তবে তাকে সেবারও মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দলে তার কোনো পদ ছিল না।
সম্প্রতি এনসিপি থেকে চসিক মেয়র পদে তার নির্বাচনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর আগে রমজান মাসে এনসিপির ইফতারে তার ছবি সংবলিত পানির বোতল বিতরণ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।